জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার কৌশল ও করণীয়


█▓▒░ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার কৌশল ও করণীয় সংক্রান্ত কিছু কথা ░▒▓█


(১) সব প্রশ্নের উত্তর করতে যাবেন না ভুলেও, কিছু কিছু কঠিন আর বিভ্রান্তিকর বা গোলমেলে প্রশ্ন ছেড়ে দেওয়ার উদারতা দেখান। তবে মাথায় রাখুন, ১৫টি প্রশ্ন ছেড়ে শূন্য পাওয়ার চেয়ে আটটি সঠিক করে চার পাওয়া অনেক ভালো।
(২) এ ধরনের পরীক্ষাগুলোয় ভালো করার ক্ষেত্রে প্রস্তুতির চেয়ে আত্মবিশ্বাস বেশি কাজে লাগে৷ আর প্রশ্নে দু-একটা ছোটখাটো ভুল থাকতেই পারে৷ এটা নিয়ে মাথা খারাপ করার কিছু নেই৷
(৩) কম্পিটিটিভ এই পরীক্ষায় ভালো করার ক্ষেত্রে প্রিপারেশনের চাইতে প্রিপেয়ার্ডনেসটা বেশি কাজে লাগে৷ I’m the best, এই ভাবটা exam হলে ধরে রাখুন৷ এটা ম্যাজিকের মতো কাজ করে!
(৪) Time Management. Because it does matter! এখন দেখা যাক, এর মানে কী? সব বিষয়ের আনসার করতে হবে এবং পাশ ও করতে হবে।
(৫) যতটুকুই প্রিপারেশন নিন না কেনো, এর maximum utilization করতে হবে। প্রস্তুতি নেয়া বড় কথা নয়, প্রস্তুতিকে ঠিকভাবে কাজে লাগানোই বড় কথা। তাই, সময়টাকে ভাগ করে নেবেন। পুরো সময়ের দুই- তৃতীয়াংশ সময়ে যা যা পারেন, সব answer করে ফেলবেন। বাকি সময়ে left-out প্রশ্নগুলো answer করবেন।
(৬) Don’t only work hard, also work smartly.. এই কয়দিন টাইম গুলোকে properly use কর। বিগত বছরের প্রশ্ন গুলো analysis করে কি কি পড়তে হবে, কি কি পড়তে হবে না তা ঠিক করা উচিত। কি কি পড়তে হবে না তা বুঝতে পারলে চাপ অনেকটা কমে যাবে।
(৭) Don’t be serious, be sincere. সবাই তো আর সবকিছু পারে না৷ এটা মেনে নিন। আপনি কোন কাজটা সবচেয়ে ভালো পারেন, সেটা বের করুন।
(৮) Stop overthinking. ‘If you're going through hell, keep going.’ Que sera sera --- Whatever was, was; whatever is, is; whatever will be, will be. যা হবার তা হবেই। আগাম টেনশন কেন করবেন?? আল্লাহ আপনার কপালে কি রাখছে তা কি আপনি জানেন। আপনি যদি এখন থেকে চিন্তা করেন আপনি টিকবেন না, আপনি কখনো টিকবেন না। পরীক্ষার হলে গিয়ে কষ্ট না করলেও চলবে।
(৯) ভার্সিটি ভর্তি পরীক্ষার ডিফিকাল্টি লেভেল আমার কাছে কিছুটা overrated বলেই মনে হয়েছে৷ এটি কম্পিটিটিভ exam, এটা যতটা সত্য, রিয়েল কম্পিটিশনে আসার মতো ক্যান্ডিডেট খুব বেশি সাধারণত থাকেনা, এটা আরো বেশি সত্য৷ বেশিরভাগ মানুষই এই exam নিয়ে ভয় দেখাতেই বেশি পছন্দ করেন। যা জানেন, তা বলেন; যা জানেন না, তাও বলেন। এই exam এ ৫০% ক্যান্ডিডেট যায় জাস্ট ঘুরতে, কোনো কারণ ছাড়াই, অনেকটা গেট-টুগেদার করতে। রিয়েল কম্পিটিটিশনে আসার মতো ক্যান্ডিডেট থাকে মাত্র 15% এর মতো। এর মানে, আপনার কম্পিটিটর আপনি যতটা ভাবছেন, তত বেশি না।
(১০) এই পরীক্ষার কোনো সুনির্দিষ্ট সিলেবাস নেই, তাই এই পরীক্ষায় ১০০% প্রস্তুতি নেয়া কারোর পক্ষেই সম্ভব নয়। মাথায় রাখুন, শতভাগ শিখেছি ভেবে তার ষাটভাগ ভুলে গিয়ে বাকী চল্লিশভাগকে ঠিকমতো কাজে লাগানোই আর্ট।
(১১) প্রশ্ন কখনো ফাঁস হবে না। এই নোংরা রেকর্ডটি জা.বি তে তে নাই। এই চিন্তা মাথা থেকে দূরে রাখুন। আর ভুলে কারো কথায় কান দিবেন না। অনেকে বলবে প্রক্সি হবে, সিট কিনে ফেলা যায়। এ কথাগুলো সম্পূর্ন মিথ্যা ও ভূয়া। আচ্ছা যদিও এটি সত্যি হয়, ঐ গুলো চিন্তা করে এই most important time গুলো অপচয় করবেন?? কাজটা নিজের গার্লফ্রেন্ড রেখে অন্যের সুন্দরী গার্লফ্রেন্ড এর প্রতি নজর দেয়া, তাই না??
(১২) নিজের জন্য, পরিবারেরর জন্যে, আপনজনের জন্য বাচতে শিখুন। মনে রাখবেন, গাধার সাথে যুদ্ধ করে একশ বার জেতার চেয়ে সিংহের সাথ যুদ্ধ করে একবার জেতা ভাল। আপনি কোন কোচিং এ কত তম হয়েছেন, কত নম্বর পেয়েছেন তা বিষয় না।। শেষ হাসিটা আপনি হাসার চেষ্টা করুন।
(১৩) অনেকের কাছে জা. বি র্যাগ এর বিভীষিকা মনে হয়। যদি কেউ কোন প্রকার র্যাগ এর শিকার হন, তাদের জন্য বলছি, ভয় পাওয়ার কিছু নেই, এগুলো এমনিই অনেকে দুষ্টমির বশেই করে থাকে। কারন এত হাজার হাজার Students দের মধ্যে কয়েকজন দুষ্টু তো থাকবেই যাদের মানুসিকতাই হলো র্যাগ দেয়া। So, কারো সাথে বেয়াদবি করিয়েন না। যার সাথেই কথা বলেন ভদ্রতা বজায় রাখবেন। কোন সাহায্য লাগলে বড় ভাইয়া আপুরা থাকবে বিভিন্ন স্টলে বা আইডি কার্ড সহ ভলান্টিয়ার হিসাবে, তাদের বলবেন। পারতপক্ষে বগির বেশ ভিতরে না ঢোকার চেষ্টা করবেন।
(১৪) আপনি পরীক্ষা দিতে যখন যাবেন হাজার হাজার মানুষ দেখে ঘাবড়ে যাবেন না। ওখানে অনেক আমার মত ভার্সিটি স্টুডেন্ট থাকবে, অনেক গার্ডিয়ান থাকবে। অনেকে পরীক্ষা দেয়ার নামে বেরাতে আসে। আবার অনেকে মানবন্টন টাও জানে না অথচ ওরা পরীক্ষার্থী। আপনার মতও অনেকে আছে। কিন্তু নিজের প্রতি বিশ্বাসটা অটুট রাখবেন।
★ আজ এ পর্যন্তই। সবার শুভ কামনায়।
©Collected

Post a Comment

0 Comments